মেটারনিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো

মেটারনিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো
মেটারনিক ব্যবস্থা বলতে কী বোঝো?

প্রিন্স মেটারনিখ ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি নেপোলিয়নের পতনের পর ফরাসি বিপ্লবের আদর্শকে অস্বীকার করে পুরাতন স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, তা ইতিহাসে মেটারনিখ ব্যবস্থা (Metternich System) নামে পরিচিত। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ছিলেন ইউরোপীয় রাজনীতির ভাগ্যনিয়ন্তা এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে ইউরোপীয় রাজনীতি পরিচালিত হত। তাই এই সময়কে ঐতিহাসিক লুই ফিশার ‘মেটারনিখের যুগ’ বলে অভিহিত করেছেন।

মেটারনিখ ব্যবস্থা

মেটারনিখ ছিলেন প্রতি বিপ্লব বা বিপ্লবের বিরোধিতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর নীতি ছিল প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রগতিবিরোধী। ন্যায্য অধিকার নীতি প্রয়োগ করে তিনি ফরাসি বিপ্লবের পূর্ববর্তী যুগের রাজনৈতিক অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

উদ্দেশ্য

মেটারনিখ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল- 

  • ইউরোপের রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। 
  • ইউরোপে প্রাক্-ফরাসি বিপ্লব যুগের রাজনৈতিক অবস্থাকে ফিরিয়ে আনা।

প্রয়োগ

মেটারনিখ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাঁর এই নীতি সফলভাবে প্রয়োগ করেছিলেন-

  • নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব রাজাদের সিংহাসনচ্যুত করেছিলেন সেই বংশের রাজাদের ওই দেশের সিংহাসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মেটারনিখ।
  • জার্মানির জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করার জন্য তিনি সেদেশে ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে কার্লসবাড ডিক্রি জারি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করেছিলেন।

তবে মেটারনিখ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ-

  • তিনি পুরাতন রাজতন্ত্রকে সমর্থন করে ও প্রগতিশীলতার বিরোধিতা করে যুগবিরোধী কাজ করেছিলেন।
  • তা ছাড়া শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপে যে আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছিল সেখানে পুরাতন রাজতন্ত্র ছিল সম্পূর্ণ বেমানান। এ ছাড়াও তাঁর অদূরদর্শিতা ও ইংল্যান্ডের বিরোধিতা মেটারনিখ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল।
আরও পড়ুন প্রয়োজনে
কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশনের তাৎপর্য Click here
ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে উপনিবেশবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ MCQ প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস-12 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় Click here
সাংস্কৃতিক সমন্বয় MCQ প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস-12 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় Click here
ইউরোপের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সামন্ততন্ত্রের প্রভাব Click here

Leave a Comment